jump to navigation

এখনো খুব দেরি হয়নি, রাজনৈতিক মোকাবিলার জন্যে June 29, 2009

Posted by juktibadi in Featured Article of the Month, Special Feature.
add a comment

শৈবাল মিত্র

রাজনৈতিক দৃস্টিকোণ থেকে দেখলে কোন দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে খুব কিছু লাভ হয়না। দলটিকে নির্মূল তো করা যায়ই না, বরং তাতে উল্টোটাই হতে পারে। দলটা আরো দৃঢ়তার সঙ্গে, আরো সংগঠিতভাবে উঠে আসবে। ইতিহাস জানে কম্যুনিস্ট পার্টি যখন নিষিদ্ধ হয়েছিল, তখন আরো বড় ও শক্তিশালী হয়ে সামনে এসে গিয়েছিল। …

একটা জিনিষ পরিষ্কার করে নিই আমি কোনভাবেই খুন বা হিংসার রাজনীতির পক্ষে নই। কিন্তু সরকার কি কখনো ভেবে দেখেছে কেন এই মানুষগুলো এইরকম চরম পথ বেছে নিল? অথবা কেন মাওবাদীরাই বা এত সহজে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারছে? উত্তর হচ্ছে — না। …

গত ৬০ বছরে সরকার শুধু ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে গেছে। এই দরিদ্রতমদের প্রয়োজনের কথা নিয়ে কেউই চিন্তা ভাবনা করেনি…।

দুর্ভাগ্যবশত সরকার সবসময়েই অতি সরলীকরণ করে প্রথমে শক্তিপ্রয়োগ করে, তারপর অবস্থা যখন আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, তখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পিষে ফেলার চেষ্টা চলে। …

সরকার মনে রাখেনা যে মাওবাদীরা কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি নয়, তাদের কাশ্মীর বা পাঞ্জাব এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। এরা সত্যিই দরিদ্র, বঞ্চিতদের অধিকারের স্বার্থে লড়ছে। তাদের আদর্শ টা সৎ কি না এটাই দেখা দরকার।

***

এখনো খুব দেরি হয়নি। আলাপ আলোচনা শুরু করাই যেতে পারে। সরকারই জিনিষটা বাড়তে দিয়ে শেষমেশ এদের ক্ষোভ কে একটা সশস্ত্র বিপ্লবে পর্যবসিত করে ফেলেছে।

[পুরো লেখাটা পাবেন — টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২৭ জুন ২০০৯]

Advertisements

দমন-নীতি দিয়ে লালগড় সমস্যার সমাধান করা যাবে না June 27, 2009

Posted by juktibadi in Featured Article of the Month, Special Feature.
add a comment

সুজাত ভদ্র


লালগড় সমস্যাটা সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মত জমি অধিগ্রহণ বা উন্নয়ন নিয়ে তৈরি হয়নি। এটা সম্পূর্ন ভাবে পুলিশি অত্যাচার কে ঘিরে। এই আন্দোলন রাজনৈতিক আইনের রক্ষাকারীদের আইন ভাঙ্গার বিরুদ্ধে, স্বাভাবিক জীবনের দাবীতে। …

মহিলাদের উপর শারীরিক অত্যাচার, তাদের মানসিক অবমাননা, ইত্যাদি কারণে আদিবাসীদের প্রধান দাবী ছিল পঃ মেদিনিপুরের এস.পি. কে ক্ষমা চাইতে হবে। সরকার তার স্বভাবসুলভ ভাবেই এই ক্ষমা চাওয়াতে রাজী হয়নি। পুলিশদের এই অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্স্কৃতির বিরুদ্ধেই আদিবাসীদের ক্ষোভ। …

প্রশ্ন হচ্ছে এই মামুলি দাবির বিরুদ্ধে, সামান্য কটা বন্দুকধারি মাওবাদির বিপরীতে একেবারে যৌথ বাহিনি, তাদের বিশাল অপারেশান কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত, ন্যায্য বা মানানসই? …

অস্ট্রেলিয়ার এক রিসার্চ স্কলার জানাচ্ছেন সন্ত্রাস দমনে সন্ত্রাসের মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত করতে হয় প্রথম। অথচ বামফ্রন্ট সরকার এখনো প্রচলিত মান্ধাতার আমলের কৌশল ব্যবহার করছে …

দেখা যাচ্ছে গত ১০০ বছরে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ উগ্রবাদিদের চেয়ে ৪৫ গুণ বেশি নরহত্যা করেছে। …

***

এই ধরণের মাওবাদী বা যে কোন গণ অভ্যুত্থানের পিছনে স্থানীয় মানুষের বিশাল উপস্থিতি থাকেই। তাই এইসব ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমাজ, সংস্কৃতি, আদর্শ ইত্যাদি বোঝার দরকার থাকে, সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে। …

আজ যা দরকার তা হল সমস্ত রকম অহিংস ব্যবস্থা যাতে কথোপকথন চালান যায়। জনগণের স্বার্থে।

[ পুরো লেখাটা পাবেন টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২৬ জুন পত্রিকায় ]

ইউ এ পি এ : সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এক আইন June 25, 2009

Posted by juktibadi in Featured Article of the Month, Special Feature.
add a comment

অনিন্দ্যসুন্দর


আজ থেকে ঠিক ৩৪ বছর আগে এই দিনে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। সেদিনের কালা আইন ছিল এম আই এস এ (MISA), ই এস এম এ (ESMA) ইত্যাদি। আজ যেমন ইউ এ পি এ (UAPA)। কী লজ্জা!

অভিযোগকারীকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। এমনটাই ভারতের সংবিধানের ঘোষিত নির্দেশ। যে কোন উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্র এই নীতিই অনুসরন করে। কিন্তু, সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রগুলি অনেক্ষেত্রেই এই নীতি মানে না। বিনা প্রমাণেই যাতে বিচার সম্পন্ন করে ফেলা যায়, সে উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। বলা বাহুল্য, এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের নীতি-বহির্ভূত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী যে কোন কাজকে আইনি ছাপ দেওয়া যায় খুব সহজেই। এই সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রগুলির অন্যতম আমাদের দেশ ভারত। ভারতে এমন কিছু আইন রয়েছে (কালা আইন), যেসব আইনে মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হয় যে, সে অপরাধী নয়। The Unlawful Activities (Prevention) Act, 1967 (UAPA) এমনই একটি কালা আইন। মুম্বই বিস্ফোরণের পর তড়িঘড়ি করে সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে যে আইনকে আরও কঠোর করা হল।

উল্লেখ্য যে, অভিযুক্তের পক্ষে প্রমাণ করা (সে অপরাধী নয়) তত্ত্বগতভাবেই অসম্ভব। তাই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযোগকারীর ওপরই বর্তায়।

কিন্তু প্রশ্ন হল, সংবিধানের নির্দেশকে অমান্য করে আইন তৈরী হয় কি করে? উত্তরটা খুবই সহজ। দুর্নীতিতে বিশ্বের প্রথমসারীতে অবস্থান করা যে দেশে শাহবুদ্দিনের মতো জঘন্য অপরাধী অনায়াসেই আইনপ্রণেতা বনে যেতে পারে, সে দেশে সংবিধান লঙ্ঘনকারী আইন তৈরী হওয়া অসম্ভব কি!

নির্বিচারে দমন-পীড়ন-সন্ত্রাস সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যেভাবে সংবিধান লঙ্ঘনের খেলায় মেতেছেন, তা দেখলে ব্রীটিশ শাসকরাও লজ্জা পেতেন। কেননা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব পালন করতেন ব্রীটিশ শাসকরাই।

প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত বেকসুর খালাস পেয়েছেন – এমন সংবাদ হামেশাই প্রকাশিত হয় । এমনকি, দীর্ঘ বছর বিনা বিচারে কারাবাসের পরও এমনটা ঘটা নতুন কিছু নয়।  ইউ এ পি এ সংশোধন করে (অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে) সরকার নিশ্চিন্ত হল, এমন ঘটনা আর ঘটবে না।

কিন্তু, সাধারণ মানুষ এই স্বেচ্ছাচার মেনে নেবেন তো?

ভারতে লালগড় সহ সব সন্ত্রাস বন্ধ হোক June 25, 2009

Posted by juktibadi in Featured Article of the Month, Special Feature.
1 comment so far

প্রবীর ঘোষ


এত সন্ত্রাস কেন?

যে কোনো সৎ ও নিরপেক্ষ মানুষই সন্ত্রাস বিরোধী | আমরাও সন্ত্রাস ও ব্যক্তি হত্যার বিরোধী | …

বামফ্রন্টএর ৩২ বছরের শাসনকালে ৪৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে |

***

১৯৯৬ সালে  এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি রিপোর্ট তৈরি করে | ১৫০ টি দেশের উপর অনুসন্ধান চালিয়ে তারা জানায়, ৮২ টি দেশে সরকারের তরফ থেকে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম চালানো হয় | যেমন কিডন্যাপ, এনকাউন্টারের নামে হত্যা  …

***

৮২ টি দেশের মধ্যে ভারত আছে |

৪৫০০০ রাজনৈতিক হত্যার মধ্যে ৪০০০০ করেছে ফ্যাসিস্ট পার্টি সিপিআই এম |

***

নভেম্বর ২০০৮ এ পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনগনের কমিটি জমাট বাঁধে | পুলিশের বে আইনী ও ক্রিমিনাল কাজের বিরুদ্ধে জমাট বাঁধেন অত্যাচারিত মানুষ | … প্রধান দাবী ছিল পুলিশ সুপার সহ অপরাধী পুলিশদের আদিবাসীদের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে |

পশ্চিম বঙ্গের সরকার সবসময়েই পুলিশের রক্ষাকর্তার ভুমিকায় অবতীর্ন |  সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, রিজওয়ানুর, খেজুরি … সর্বত্র পুলিশকে দিয়ে হত্যা, ধর্ষন  …

***

৩২ বছরে যা হয়নি তা হয়েছে গত ৮ মাসে |

গ্রামবাসীরা ৬০ ফুট গভীর জলাধার, নলকূপ, সেচের জন্যে খাল, ৫০ কি.মি. মোরামের রাস্তা সবই তৈরী করেছে নিজেদের শ্রম দিয়ে, সরকারী সাহায্য ছাড়া | …

***

নিষ্ঠুরতায় নাত্‌সী বাহিনীর সমকক্ষ সিপিএম এই বঙ্গে মরীচঝাঁপি, নকশালবাড়ি, সাঁইবাড়ি, কাশিপুর, বেলেঘাটা, বরাহনগর, ঘোকসাডাঙ্গা, কেশপুর, গড়বেতা, ধানতলা, বানতলা, আরামবাগ, নন্দীগ্রাম … তারপরও  কেন কেন্দ্রীয় সরকার সিপিআই(এম) কে অন্তত পশ্চিম বঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষনা করছেনা …

এতদিন প্রচারমাধ্যমগুলো আমাদের মাথায় ঢুকিয়েছে আত্মরক্ষার জন্যে অস্ত্র

ধরাও রাষ্ট্রদ্রোহিতা | এই রাষ্টদ্রোহীরাই সন্ত্রাসবাদী, হোক না তারা ভুখা, নাঙ্গা, পার্টি, সেনা ও পুলিশের অত্যাচারের শিকার …

***

[ সম্পূর্ন লেখাটি ইংরাজি তে পাবেন www.thefreethinker.tk , www.srai.org তে ]


খাদ্য, গায়ের জোর নয়মহাশ্বেতা দেবী

লালগড় সমস্যার সমাধানের উপায় খাদ্য, গায়ের জোর নয় |

… সরকার যা করছেন, তা ভুল | মানুষ যৌথভাবে লড়াই করছেন কিছু দাবি নিয়ে | তাকে সম্মান করুন | …

এই সরকারের এবার চলে যাওয়া উচিত |  এঁরা এসেছিলেন অনেক হই হই করে | কিন্তু এত বছরে এঁরা জঙ্গলের আদিবাসী মানুষদের জন্যে কিছুই করেন নি | রাজ্য বনদপ্তর কন্ট্রাক্টরদের বে আইনি গাছ কাটায় মদত দিয়েছে, আর তাতে স্থানীয় মানুষের জীবিকার ক্ষতি হয়েছে |…

আদিবাসীদের বি.পি.এল কার্ড, সোলার বিদ্যুত আর পানীয় জল দিয়ে দেখুন কী হয়!

এত বছরেও ওরা বি.পি.এল কার্ড পায়নি | যে চাল, গম ওদের প্রাপ্য, তা কোনদিনিই পায়নি। এমনকি গুজরাটেও SEZ এর পাশাপাশি Green Economic Zone গঠিত হয়েছে | এখানে তেমন করা যায়নি কেন? …

সরকারের যে কি অবস্থান কিছুই স্পষ্ট নয়। সমস্যাটা এখানেও SEZ নিয়ে | সরকার হয়ত এখন ভয় পাচ্ছে জিন্দাল রা শালবনি প্রজেক্ট এর জন্যে দেয়া টাকা ফেরত চাইবে

——–  [ পুরো লেখাটা পাবেন টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২৩ জুন পত্রিকায় ]


লালগড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো অনৈতিক ও বেআইনি সুজাত ভদ্র (APDR)

—–[টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ২৩ জুন ]


অভিযোগের কারন গুলোকে দূর করতে পারলে লালগড়ের অধিবাসীরা নিজেরাই মাওইস্ট দের তাড়িয়ে দেবে |… কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রথমে এটা বোঝা উচিত যে লালগড়ের মানুষ ত্রান চায়না, ওরা চায় অর্থনৈতিক ক্ষমতা যাতে ওরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারে। আর এটা আসবে রাস্তা, স্বাস্থকেন্দ্র, স্কুল, বিদ্যুত ও পানীয় জল সরবরাহের মধ্যে দিয়ে। যেগুলো আমরা কলকাতার মানুষরা খুব স্বাভাবিক মনে করি, সেগুলো থেকে ওরা এতদিন বঞ্চিত থেকে গেছে। লালগড়ের মানুষের হৃদয় জয় করতে কয়েকটা রুটির টুকরো ছুঁড়ে নয়, ওদের অবস্থার উন্নতির আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে।

—–[দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, প্রাক্তন অধ্যাপক, অর্থনীতি,

Indian Statistical Institute,

As told to Times of India, 23 June, 2009]